Breaking

Thursday, August 29, 2019

হার না মানা এক গল্পের নাম ফরিদপুরের লোকমান

এএফ/ ফরিদপুর প্রতিনিধি :
ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজি ডাঙ্গী গ্রামের আব্দুল কাদেরের চার সন্তানের মধ্যে সবার বড় লোকমান। জন্মের দুই বছরের পর থেকেই তার দুটি চোঁখ অন্ধ। কিন্তু থেমে নেই দৃষ্টি হারানো অদম্য লোকমান। সব প্রতিবন্ধকতাকে পেছনে ফেলে হার না মানা অন্ধ লোকমান সামনে এগিয়ে গিয়ে জয় করতে চায় প্রতিটি কাজ। দৃষ্টি শক্তিসম্পন্নরা যা করতে পারেন না, সেই সব কাজ খুব অনায়াসেই করতে পারে সে।

লোকমানের বয়স ৪৮পেরিয়ে গেলেও সে তার অন্ধ চোখ নিয়েই প্রতিদিন বড় বড় গাছ কাটা, নারকেল পাড়া, মাছ মারা, আখ কাটা সহ যে কোনো কঠিন কঠিন কাজ খুব অনায়াসেই করে ফেলতে পারে। লোকমানের পরিবারে পাচঁ বছরের একটি কন্যা সন্তার রয়েছে। লোকামান তার মনের মধ্যে জমানো অদম্য প্রতিভা, মনোবল ও আতœবিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে অন্যের ওপর মুখাপেক্ষী না থেকে নিজে খেটে অর্থ উপার্জন করে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে স্বচ্ছন্দে জীবিকা নির্বাহ করে চলছেন। 
সরোজমিনে বৃহস্পতিবার বিকালে উপজেলার হাজি ডাঙ্গী তার গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, সে বাড়ির পাশের বড় একটি কড়ই গাছে উঠে সাবলীলভাবে গাছ কেটে যাচ্ছে। 

লোকমানের সাথে কথা বলে জানা যায়, সে তার দুই চোখেঁ কিছ্ইু দেখতে না পেলেও যেকোনো কঠিন কাজই হোক সে খুব সহজেই দৃষ্টিসম্পন্নদের মত নিখুত ও দক্ষতার সাথে করতে পারে। 

এসময় লোকমানের সাথে গাছ কাটতে থাকা অপর দুই জন ইসমাইল ও রাকিব জানান, লোকমান চোখেঁ না দেখলেও সে বড় বড় গাছ উঠে কাটাসহ যেকোন ধরনের কঠিন কাজ সাবলীলভাবে করতে পারে। যা একজন সুস্থ্য স্বাভাবিক মানুষের পক্ষে সম্ভব না। 

লোকমানের মা ছালেহা বেগম জানান, জন্মের দুই বছর পর থেকেই বিভিন্ন শারীরিক অসুস্থ্যতার কারনে  লোকমানের দুটি চোঁখ সম্পূর্নভাবে অন্ধ হয়ে যায়।  তবুও আল্লাহর রহমতে লোকমান যে কোনো ধরনের কঠিন কাজ সাবলীলভাবে করতে পারে। 

তিনি আরো জানান, আমরা তো গরিব মানুষ। টাকার অভাবে ছেলেটির চোঁখের চিকিৎসা করাতে পারতেছিনা।  চিকিৎসা করাতে পারলে ওর চোঁখ দুইড্যা ভালো হয়ে যেতো বলে তার মা জানান। 

সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এ.জি.এম. বাদল আমিন জানান, লোকমান অত্যান্ত প্রতিভাবান ও কর্মঠ একজন ছেলে। লোকমান প্রতিভা আর বুদ্ধির জোরে দুই চোঁখ অন্ধ হয়েও যে কোনো কঠিন কাজ খুব দক্ষতার সাথে সহজেই করতে পারে বলে তিনি জানান।

No comments:

Post a Comment