Breaking

Sunday, May 2, 2021

May 02, 2021

সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে ফরিদপুর জেলা ভোক্তা অধিদপ্তরের বিশেষ অভিযান|

 



মোঃরিফাত ইসলাম। স্টাফ রিপোর্টারঃ

পবিত্র মাহে রমজান ও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ সেবা সপ্তাহের ৩য় দিন আজ ২ মে ২০২১ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের শ্রদ্ধাভাজন মহাপরিচালক মহোদয়ের অর্পিত ক্ষমতাবলে এবং মান্যবর জেলা প্রশাসক, ফরিদপুর মহোদয়ের সার্বিক সহযোগিতায় জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক কর্তৃক সদর উপজেলার কানাইপুর বাজারে  ফল, খেজুর, মাংস ও নিত্যপণ্যের দোকানে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পণ্যের মূল্য তালিকা না থাকার অপরাধে ২টি প্রতিষ্ঠানকে ৮,০০০ টাকা অর্থদন্ড আরোপ করা হয়েছে। এছাড়াও বিশেষ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে লিফলেট বিতরণ এবং মাস্ক পরিধান করুন, সুস্হ থাকুন বিষয়ে ভোক্তা সাধারণের মধ্যে প্রচারণা চালনা হয়েছে। এছাড়াও জেলা প্রশাসনের মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করা হয়েছে। এসময় জনাব মোঃ বজলুর রশিদ খান ও জেলা পুলিশের ১টি টিম উপস্থিত থেকে বিশেষ অভিযান ও প্রচারণা কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করেন|

May 02, 2021

ফরিদপুরে বিষপানে কলেজ ছাত্রের আত্মহত্যা

 



মোঃরিফাত ইসলাম স্টাফ রিপোর্টারঃ

রিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের করিমপুর গ্রামের আহম্মদ মোল্লার পুত্র আল আমিন (২০) বিষপান করে আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।


গত ৯ই এপ্রিল শুক্রবার দুপুরে এ বিষপানের ঘটনা ঘটে। বাড়ির লোকজন দেখার পরে তাকে দ্রুত ফরিদপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে রোগীর অবস্থার অবনতি হলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে রোগীকে আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে জায়গার সংকুলান না হওয়ায় রোগীকে পরবর্তীতে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার ভোর ৬টার দিকে তার মৃত্যু ঘটে। এখনও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া যায়নি।


করিমপুর গ্রামের বাসিন্দা কৃষক আহম্মদ মোল্লার চার ছেলে। কৃষি কাজ করে সংসারের সমস্ত  জীবিকা নির্বাহের পর চারটি সন্তানকে লেখাপড়া চালিয়ে আসছিল। দ্বিতীয় ছেলে মোঃ আল আমিন (২০), তিনি ২০১৯ শিক্ষাবর্ষে এস এস সি পরিক্ষায় পাস করে, ফরিদপুর মুসলিম মিশন কলেজে এইচ এসসি পড়ুয়া একজন ছাত্র ছিলেন।


এলাকাবাসীর সাথে কথা বলে জানা যায় আল আমিনের সাথে প্রতিবেশী এক ভাবির বোনের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। আবার অনেকে বলেন এই ভাবির সাথেও তার সম্পর্ক ছিল। 


নিহতদের পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় পাঁচ বছর ধরে গ্রামের একই এলাকার ইয়াদ আলীর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসী সাজেদুলের সঙ্গে কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন নিবাসী রুহুল আমিন এর মেয়ে রুনা বেগমের বিবাহ হয়। স্ত্রী রুনা বেগম ও একটি কন্যা সন্তান রেখে প্রায় দু'বছর যাবত সে প্রবাসে রয়েছেন।


স্বামীর অনুপস্থিতিতে প্রতিবেশী আল আমিন এর সাথে রুনার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। বিষয়টি নিহত আল আমিনের পরিবারের লোকজন জানতে পেরে, আল আমিনকে প্রেমের সম্পর্ক থেকে সরে আসতে বলা হয় এবং আল আমিনকে অন্য জায়গায় মেয়ে দেখে বিবাহের কথা বলা হয়। এই প্রেমের সম্পর্কের জের ধরে ঘরে রাখা জমিতে ব্যাবহার করা কীটনাশক খেয়ে আত্মহত্যা করে।


এই ব্যাপারে নিহত আল আমিন এর বড় ভাই রায়হান মোল্লা বাদী হয়ে কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে।


এই ব্যাপারে রুনা বেগমের সাথে কথা হলে বলেন, আল আমিন আমার প্রতিবেশী হিসাবে দেবর হয়। শুধু দেবর হিসাবে কথাবার্তা হতো। তার সাথে অন্য কোন সম্পর্ক ছিল না। তাকে ছোট ভাই হিসেবে স্নেহ করতাম, এবং বিভিন্ন কাজে কর্মে সহযোগিতা নিতাম। আমার স্বামী এবং তিন বছরের একটি সন্তান আছে। আমি কেন এ সমস্ত কাজে জড়াতে যাবো। আমার স্বামী আমার কাছে থাকে না বলে এ সমস্ত কথা বলে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়াচ্ছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। 


রুনা বেগমের শশুর মোঃ ইয়াদ আলী জানান, আল আমীন সম্পর্কে আমার ভাতিজা হয়। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কাজে তাকে আমি সাথে নিতাম। সেই সুবাদে আমার বাড়িতে তার নিয়মিত যাতায়াত ছিল। এটাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন লোক মিথ্যা কথা রটিয়ে বেড়াচ্ছে।

Saturday, May 1, 2021

May 01, 2021

প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করলেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক

 


ওবায়দুল ইসলাম রবি, রাজশাহী প্রতিনিধি:

রাজশাহী রিভারভিউ কালেক্টরেট স্কুল মাঠে আজ সকালে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের কারণে জেলার ০৯টি উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মহীন, দুঃস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল বিতরণ কার্যক্রমে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে এ খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করেন। 


সাম্প্রতিক করোনা ভাইরাসের বিস্তারলাভ প্রতিরোধে সরকারি সিদ্ধান্ত মোতাবেক লকডাউন থাকাকালীন সময়ে অসহায় দুঃস্থ পরিবারের মাঝে স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা তহবিল থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার  নির্দেশনায় জেলা প্রশাসনের আয়োজনে আজ ২১০টি অসহায়, দুঃস্থ ব্যক্তি/পরিবারের মাঝে খাদ্যসামগ্রী হিসেবে প্রতিজনকে ১০ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল ও ১ লিটার করে সয়াবিন তেল প্রদান করা হয়।


এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, আপনারা সরকারি নির্দেশনা মেনে চলুন। সরকার আপনাদের পাশে আছে। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে আজ আপনাদের এই সহায়তা প্রদান করা হলো। আপনারা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলবেন, মাস্ক পরিধান করবেন। অসহায় ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মাঝে এ ধরণের সহায়তা প্রদান অব্যাহত থাকবে। আপনারা মনে রাখবেন সরকার ক্ষতিগ্রস্তদের বিষয়ে অবগত আছেন।


ত্রাণ বিতরণকালে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শাহানা আক্তার জাহান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) নজরুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুহাম্মদ শরিফুল হক, বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবু আসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষ ও আইসিটি) কল্যাণ চন্দ্রসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

Thursday, April 29, 2021

April 29, 2021

ফরিদপুরে ভোক্তা অধিকার এর বিশেষ সেবা সপ্তাহ শুরু।

 



মোঃরিফাত ইসলাম। ফরিদপুর থেকেঃ
আসন্ন পবিত্র রমজান ও পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ৩০ এপ্রিল ২০২১ থেকে ০৬ মে ২০২১ পর্যন্ত ‘বিশেষ সেবা সপ্তাহ’ পালন উপলক্ষ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের বিশেষ পরিকল্পনা নিন্মরূপ:
১। বাজার তদারকি/অভিযান পরিচালনা:
ক. বিশেষ সেবা সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুদ ও সরবরাহ, ন্যায্যমূল্যে ক্রয়-বিক্রয় এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক ঢাকা মহানগরসহ দেশব্যাপী শুক্র ও শনিবারসহ সাতদিন বাজার তদারকি র্কাক্রম জোরদারকরণ;
খ. বিশেষ সেবা সপ্তাহ পালনের লক্ষ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে দোকান/প্রতিষ্ঠানে পণ্যের মূল্য তালিকা টানানো/প্রদর্শন করার বিষয়টি জনস্বার্থে নিশ্চিতকরণ;
গ. বাজার তদারকি/অভিযান পরিচালনাকালে সচেতনতামূলক কর্মকান্ড জোরদারকরণ।
২। টিসিবির ট্রাক সেল: আসন্ন পবিত্র রমজান ও পবিত্র  ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে ‘বিশেষ সেবা সপ্তাহ’ পালনের লক্ষ্যে ভোক্তাগণ যেন টিসিবি’র পণ্য সঠিক মূল্যে এবং স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক ক্রয় করতে পারে সে লক্ষ্যে টিসিবি’র ট্রাক সেল তদারকি।
৩। প্রচারণামূলক কার্যক্রম:
ক. বিশেষ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কর্তৃক ভোক্তা ও ব্যবসায়ীবৃন্দের করণীয় বিষয়ে জাতীয় পত্রিকায় গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ;
খ. বিশেষ সেবা সপ্তাহে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সকল কার্যালয়ের বাজার তদারকি কার্যক্রমে ব্যবহৃত গাড়িতে ৩০ এপ্রিল ২০২১ থেকে ০৬ মে ২০২১ পর্যন্ত ‘বিশেষ সেবা সপ্তাহ’ লেখা সম্বলিত ব্যানার ব্যবহার;
গ. বিশেষ সেবা সপ্তাহে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার অভিযান পরিচালনাকালে হ্যান্ড- মাইকের মাধ্যমে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা;
ঘ. বিশেষ সেবা সপ্তাহে ‘ মাস্ক পরিধান করুন-সুস্থ থাকুন’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে ভোক্তা-ব্যবসায়ী ও পথচারীর মধ্যে মাস্ক বিতরণ এবং স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতনকরণ।

Wednesday, April 28, 2021

April 28, 2021

ফরিদপুরের সালথায় পিতার বিরুদ্ধে সন্তানদের সংবাদ সম্মেলন

 




সন্তানদের খুন করে ইতিহাস করার হুমকি পিতার

 মোঃরিফাত ইসলাম।
সন্তানদের মেরে ইতিহাস করার পিতার হুমকির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সন্তানেরা। সংবাদ সম্মেলনে তাদের পিতার কাছে ভরণপোষণের জন্য টাকার দাবি জানান।

মঙ্গলবার (২৭ এপ্রিল, ২০২১ইং) দুপুরে ফরিদপুরের সালথা উপজেলার মাঝারদিয়া ইউনিয়নের মুরুটিয়া গ্রামে নানা বাড়িতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন সুমন খান (১৮), রুমন খান (১৫), সুয়াইফ খান (৯) ও তাদের মা ইসমোত আরা।

সুমন খান নগরকান্দা সরকারী কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র এবং তার ছোট দুই ভাই রুমন ও সুয়াইফ মধুখালী উপজেলার আমডাঙ্গা জামেয়া আশরাফিয়া কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানা মাদ্রাসার জামায়াত খানা বিভাগের ছাত্র। অভিযুক্ত পাষন্ড পিতা পাশ্ববর্তী নগরকান্দা উপজেলার কল্যানপুটি গ্রামের মোঃ রুস্তুম খানের পুত্র ফিরোজ খান।

সংবাদ সম্মেলনে ইসমোত আরা’র বড় ছেলে সুমন বলেন, আমার বাবা আমাদেরসহ মা’কে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিলে নানা বাড়িতে অবস্থান করি। এরপর থেকে আমার বাবা আমাদের কোনো খোজ খবর রাখেন না। আমাদের ভরণপোষনের জন্য আমার মা কোর্টের মাধ্যমে ভরণপোষণের টাকা দাবি জানিয়ে এবং যৌতুকের অভিযোগে বাবার বিরুদ্ধে মামলা করে এবং সে মামলায় কোর্টে আমরা তিন ভাই স্বাক্ষী দেই। এ ঘটনায় আমার বাবা আমাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে এবং অনেকের কাছে বলে বেড়াচ্ছে “ সন্তানদের খুন করে ইতিহাস করে যাবো”। তার এ হুমকির কারনে আমরা নিরাপত্তাহীনতায় দিনযাপন করে আসছি। আমরা বেঁচে থাকার জন্য সম্বল হিসেবে বাবার কাছে ভরণপোষণের টাকার দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ইসমোত আরা বলেন, আমার স্বামী যৌতুক ও নারী লোভী এবং একজন প্রতারক। আমাদের ২২ বছর আগে ১৯৯৯ ইং তারিখে বিয়ে হয়। এরপর আমাদের তিন পুত্র সন্তানের জন্ম হয়। আর্থিক অভাব অনটনের কারনে সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে আমি জর্ডান প্রবাসে চলে যাই এবং পরবর্তীতে সৌদিআরব চলে যাই। এ সময়ে আমার টাকা দিয়ে এবং বাবার বাড়ি থেকে কিছু টাকা এনে স্বামী ফিরোজকে ওমান পাঠিয়ে দেই। সেখানে যাওয়ার বছরখানেক পর আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়, সন্তানদেরও খোজ-খবর নেন না। পরে জানতে পারি তিনি সেখানে দুটি বিয়ে করেছেন এবং বর্তমানে রোকসানা নামে এক মহিলার সাথে আছে। গত ৭ জানুয়ারী সে ঐ নারীকে নিয়ে দেশে ফিরে আসে। আমরা প্রতিবাদ জানালে তিনি আমার সন্তানসহ আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়। আমি সন্তানদের নিয়ে ভয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসি। এরপর এক শালিসে সে জানিয়ে দেয় আমাদের বাড়ি যেতে দেবে না এবং সন্তানদের ভরণপোষণ করতে পারবে না। এরপর আমি দিশেহারা হয়ে সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য ১৭ লক্ষ ২৮ হাজার টাকাসহ দেনমোহরের ১ একলক্ষ ২৫ হাজার টাকার দাবিতে ফরিদপুরের বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ৬নং আমলী আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে একটি মামলা করেছি। এরপর থেকে আমার স্বামী আমাকে বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছে এবং আমাকে তালাক দিয়ে দিবে বলে জানিয়ে দিয়েছেন। আমার সন্তানদেরকেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়ে আসছে। আমার স্বামী বলে বেড়াচ্ছে, পিতার হাতে সন্তান খুন করে ইতিহাস করে দেবো। এমতাবস্তায় আমি আমার সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে বসবাস করতেছি। আমি সন্তানদের ভরণপোষণের জন্য টাকা আদায়ের দাবি জানাচ্ছি এবং এই প্রতারক স্বামীর উপযুক্ত বিচারের দাবি জানাচ্ছি।

এ সময় তিনি বলেন, অভিযুক্ত ফিরোজ দেশে থাকা অবস্থায় আরো একটি বিয়ে করেন এবং পরে তাকে তালাক দেন। সেখানে তার একটি ১০ বছরের পুত্র সন্তান আছে। এছাড়া আমি জানতে পেরেছি, বর্তমানে যার সাথে সংসার করতেছে তার সাথে এখনও কাবিন নামা হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ফিরোজ খানা অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। তবে, একাধিক বিয়ের কথা স্বীকার করেন এবং বিদেশ থাকা অবস্থায় এক নারীর সাথে বিয়ে করেছেন বলে জানান। তিনি বলেন, সন্তানেরা এখন আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে এসব অভিযোগ তুলছে এবং আমি ওদের এমন কোনো হুমকি দেয়নি।

Tuesday, April 27, 2021

April 27, 2021

ফরিদপুরে কৃষকের ধান কেটে ঘরে তুলে দিতে ধান ক্ষেতে ডিসি অতুল সরকার




 মোঃরিফাত ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার:


চলমান করোনা ভাইরাস সংক্রমণের হাত থেকে রেহাই পেতে চলছে কঠোর লকডাউন। এই লকডাউনে কৃষকেরা ক্ষেতের ধান কাটতে শ্রমিক সংকটে পরেছেন। কিছু শ্রমিক পাওয়া গেলেও তাদেরকে দিতে হয় দ্বিগুণ পরিমান পারিশ্রমিক যা দরিদ্র কৃষকদের জন্য অসম্ভব। এই সংকটে এ সকল দরিদ্র কৃষকের ক্ষেতের ধান নিজ হাতে কাটলেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। 


২৭ এপ্রিল মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে শহরের বাইপাস সড়কের পাশে ১ নং গোয়ালচামট এলাকার দরিদ্র কৃষক রফিকুল ইসলামের ১০ কাঠা জমির ধান কেটে ঘরে তুলে দিলেন জেলা প্রশাসকসহ অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।


সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কম্বাইন্ড হার্ভেস্টারের মাধ্যমে বোরোধান কর্তন উৎসবে জেলা প্রশাসকের সাথে ধান কর্তন উৎসবে অংশ নেন সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আঃ রাজ্জাক মোল্লা, কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক ড. হযরত আলী, জেলা কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা কে এম হাসিবুল হাসান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ পরিচালক কৃষিবিদ মোঃ জাহিদুল আলম, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবুল বাসার প্রমুখ। 


জেলা প্রশাসক জানান, করোনা কালে দরিদ্র কৃষকেরা শ্রমিক সংকটে তাদের জমির ফসল ঘরে তুলতে পারছে না। এই সংকটের সময়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দরিদ্র কৃষকদের জমির ধান কেটে দেওয়া শুরু হয়েছে। 


তিনি বলেন, বর্তমানে কৃষকদের ধান কাটা খুবই সহজ আর সাশ্রয়ী হয়েছে। কম্বাইন্ড হার্ভেস্টার খুব অল্প সময়েই অনেক লোকের কাজ সহজেই করে দিতে পারে। এতে একদিকে যেমন সময় বাঁচে অন্যদিকে খরচও বাঁচে।


তিনি কৃষকদের উদ্যেশ্যে বলেন, আপনারা অল্প সময়ের মধ্যে আপনাদের ধান সরকারের কাছে বিক্রি করে দেন। এই করোনা সংকটে সরকার ধান ক্রয় কার্যক্রম জারি রেখেছে। আপনারা ন্যায্য মুল্য পাবেন।

Tuesday, April 20, 2021

April 20, 2021

ফরিদপুরে প্রায় ১০ মন জাটকা আটক



ফরিদপুর প্রতিনিধি : জাতীয় সম্পদ জাটকা ইলিশ রক্ষা করার জন্য বাংলাদেশ সরকার বিভিন্ন সরকারি প্রথা চালু করলেও কিছু অস্বাধু ব্যবসায়ীর কারনে এই মাছ দিন দিন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জাটকা মাছ রক্ষার্তে চলে নানা অভিযান। প্রতিবছর অসংখ্য জেলেকে জেল জরিমানা করা হয়ে থাকে। কিন্তু তারপরেও এই অস্বাধূ ব্যবসায়ীগণ নিজেদের ব্যাক্তি স্বার্থ হাসিলের জন্য শত শত মন জাটকা নিধন করে চলেছে। সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে জাটকা মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফরিদপুরে ঐতিহ্যবাহী হাজি শরিয়াতুল্লাহ বাজার এর মাছ ব্যবসায়ী মজিবর দত্ত এর ঘরে ৩টি ড্রামে থাকা প্রায় ৩ শত কেজি জাটকা জব্দ করে বিজ্ঞ নির্বাহি ম্যাজিস্ট্রেট এ্যাসিল্যান্ড আমিনুল ইসলাম। ৬ এপ্রিল মোবাইলকোর্ট পরিচালোনা করে মাছ ব্যবসায়ী মজিবর দত্ত এর ঘর থেকে এ জাটকা উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়াও গত ৫ই এপ্রিল শহরের রঘুনন্দুনপুর বাজারে অভিযান পরিচালোনা কালে ৭টি ড্রামে থাকা প্রায় ৭০০ কেজি জাটকা জব্দ করে এ্যাসিলেন্ড আমিনুল ইসলাম। এ বিষয়ে হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজার এর একাধীক মাছ ব্যবসায়ীর সাথে কথা বলে জানা যায়, মুুজিবর দত্ত দীর্ঘ দিন ধরে অসৎ পথে ব্যবসা পরিচালানা করে আসছে। বর্তমানে জাটকা ধরা সম্পুর্ন বেআইনি। কিন্তু এই সরকারি বিধি অমান্য করে মাছ ব্যবসায়ী মুজিবর দত্ত ৩টি ড্রামে করে প্রায় ৩ মন জাটকা বিক্রির উদ্দেশ্যে নিয়ে আসে। পরে প্রশাসনের পক্ষ থেকে মোবাইল কোর্ট পরিচালোনা করে উক্ত জব্দকৃত জাটকা মাদ্রাসার এতিমদের মাঝে বন্টন করে দেয়। উল্লেখিত ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করলেন হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারের সাধারন সম্পাদক নুরুল ইসলাম মোল্লা, কোষাধাক্ষ্য খায়রুজ্জামান লাবলু, মাছ ব্যাবসায়ী এমএম মুছা, নুর মোহাম্মদ, সুমন, রমজান, কাদের শেখ, ফনি বিশ্বাস, লক্ষন দাস, বাবুল বিশ্বাস, নিখিল চন্দ্রসহ প্রায় অর্ধশত ব্যবসায়ী। এই মাছ জব্দর বিষয়ে সদর এ্যাসিল্যান্ড আমিনুল ইসলাম এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, দুই দফায় প্রায় ১ হাজার কেজি  জাটকা ইলিশ জব্দ করা হয়, স্পটে কাউকে পাওয়া যায়নি।  জব্দকৃত মাছ মাদ্রাসায় এতিমদের মাঝে বন্টন করা হয়েছে। তবে অভিযুক্তের বিষয়ে বাজারের পক্ষ হতে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।  এ ছাড়াও নাম প্রকাশ না করার শর্তে মুজিবর দত্তের সিংপাড়া এলাকার একাধীক ব্যাক্তিবর্গ জানান হাজী শরিয়াতুল্লাহ বাজারে শুধু অবৈধ মাছের ব্যবসাই নয়, তিনি রমরমা মাদকের ব্যবসা করে দেশের যুবসমাজকে ধংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। এই মাছের চালানের সাথেই হয়ত বড় বড় মাদকের চালান এনে রমরমা ব্যবসা পরিচালোনা করে আসছে। এলাকার কেউ মুখ খুললে তাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় পরতে হয় বলে অনেকেই জানান।  এলাকাবাসীর দাবি এই অপকর্মের সেবক মজিবর দত্তকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি দেওয়া হোক। এ বিষয়ে অভিযুক্ত মুজবরের দোকান বন্ধ থাকায় তার বাড়িতে গিয়ে কথা বলার চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি।

Monday, April 12, 2021

April 12, 2021

ফরিদপুরে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যা চেষ্টা; ঘাতক ধরাছোঁয়ার বাইরে



নাজমুল হাসান নিরব,ফরিদপুর প্রতিনিধি :


ফরিদপুরের মধুখালীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে চার ভাই ও পিতার বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার মামলা করা হয়েছি। কিন্তু মামলার ১৪ দিনের মাথায়ও আসামি রয়ে গেছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।


এ ব্যাপারে মঙ্গলবার(১৩ এপ্রিল) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মধুখালী থানার এসআই শাহরিয়ার  বলেন, আসামীরা এলাকায় না থাকায় তাদের গ্রেফতার করা সম্ভব হচ্ছে না তবে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহত আছে।




লিখিত অভিযোগ হতে জানা যায় রায়পুর ইউনিয়নের হাটঘাটা গ্রামের রোকনুজ্জামান (৫০) চাষাবাদের জন্য ট্রাক্টর ভাড়া দিয়ে থাকেন। গত ৩১ মার্চ বেলা অনুমানিক পৌঁনে একটার সময় তার নিয়োগকৃত ট্রাক্টর চালক মোঃ সজল মিয়া দামোদরদী গ্রামের জনৈক আলম সরদারের জমি চাষাবাদ করার সময় অসাবধানতা বশত ট্রাক্টরের একটি চাকা পাশ্ববর্তী রোপনকৃত পাটের জমিতে প্রবেশ করলে এজাহারে উল্লিখিত ১ নং আসামী দামোদরদী গ্রামের হাবিব সরদারের পুত্র মোঃ সাহান তাৎক্ষণিক ট্রাক্টরের মালিক রোকনুজ্জামানকে এলোপাতাড়ি কিলঘুষি মেরে জামা কাপড় ছিঁড়ে ফেললে ঘটনার সূত্রপাত হয়। পরবর্তীতে বেলা অনুমানিক দুইটার সময় রোকনুজ্জামান তার শ্যালক মোঃ হোসেন মোল্যা, ট্রাক্টরের ড্রাইভার মোঃ সজল মিয়া ও প্রতিবেশী ভাজিতা মোঃ হুমায়ন মিয়াকে সাথে নিয়ে ১ নং বিবাদীর পিতার নিকট বিচার চাইলে হাবিব সরদারের পুত্র রাসেল (৩৫), রাজিব (২৮) ও ইমরান (২৫) উপস্থিত ব্যক্তিদের উপর হাবিব সরদারের নির্দেশে অতর্কিতভাবে এলোপাতাড়ি মারপিট করে গুরুত্বর আহত করে। ১ নং বিবাদী মোঃ সাহান তার হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে রোকনুজ্জামানের শ্যালক মোঃ হোসেন মোল্যার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করলে গুরুত্বর রক্তাক্ত জখম হয়। আহত রোগীদের মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হলে অবস্থার অবনতি হওয়ায় মোঃ হোসেন মোল্যাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরণ করা হয়। 


এ বিষয়ে মধুখালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলা নং ০১, তারিখ- ০১.০৪.২০২১ ইং। মামলায় মোট ৫ ( পাঁচ)জনকে আসামী করা হলেও অদ্যবধি কোন আসামী গ্রেফতার হয় নাই। অর্থ সম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার পাশাপাশি একাধিক ব্যক্তি গুরুত্বর জখম থাকার পরও মামলার আসামী গ্রেফতার না হওয়ায় এলাকায় অসন্তোষ বিরাজ করছে। 



April 12, 2021

আবেগ,অনুভুতির নাম শেখ হাসিনা: আনিছুর রহমান

 



ডেস্ক ঃ

বাংলাদেশ আওয়ামী স্বাধীনতা প্রজন্মলীগের কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান, গণ টেলিভিশনের চেয়ারম্যান, দৈনিক সময় পত্রিকার সম্পাদক, বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ আনিছুর রহমান আওয়ামী স্বাধীনতা প্রজন্মলীগ, খুলনা জেলা কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বলেন আমাদের আবেগ,অনুভুতির নাম শেখ হাসিনা।   তিনি বলেন, ৭৫ সালের পরে আমরা যারা জন্মেছি শেখ হাসিনা আমাদের মা হয়, মা।   শেখ হাসিনা আমাদের মাতৃতুল্য নেত্রী।   ১৯৮১ সালের ১৭ মে বিকেলে শেখ হাসিনা অনেকটা ছত্রভঙ্গ আওয়ামী লীগের সভাপতি হিসেবে দিল্লি থেকে ঢাকায় প্রত্যাবর্তন করেন। সেই বিকেলটা ছিল বেশ ঝোড়ো ও বৃষ্টিস্নাত। বঙ্গবন্ধুকন্যাকে স্বাগত জানাতে সেদিন ঢাকার রাজপথে কয়েক লাখ মানুষের সমাগম হয়েছিল। এমনটি দেখা গিয়েছিল শুধু পাকিস্তান কারাগার থেকে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন। শেখ হাসিনাকে স্বদেশের মাটিতে স্বাগত জানাতে ঢাকায় যে জনসমুদ্র সৃষ্টি হয়েছিল, তা দেখে এটি মনে হওয়াটা স্বাভাবিক ছিল যে এই দেশের মানুষ বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন তাঁর রক্তের উত্তরাধিকারের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের জন্য অপেক্ষা করেছে। ১৯৭৫ সালের জুন মাসে দেশ থেকে বিদেশ যাওয়ার সময় শেখ হাসিনার সব ছিল। ফিরলেন একাকী, বুকের ভেতর একরাশ হাহাকার নিয়ে। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানাতে আসা লাখো মানুষের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে বুঝলেন, আগামী দিনে এই নিঃস্বার্থ লাখো মানুষই হবে তাঁর পথচলার অনুপ্রেরণা।


 ঢাকায় তখন শেখ হাসিনার থাকার জন্য নিজের একচিলতে আশ্রয় নেই। উঠলেন ফুফুর বাসায়। স্বজন হারানোর প্রাথমিক ধাক্কাটা সামলে নিয়ে নেমে পড়লেন দল গোছানোর কাজে। 


শেখ হাসিনার একক নেতৃত্বে এবং দূরদর্শিতার ফলে অনেক চড়াই-উতরাই আর ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে দীর্ঘ একুশ বছর পর যখন আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুর মৃত্যুর পর প্রথমবারের মতো ক্ষমতায় এলো, তখন রাতারাতি ঘরে ঘরে আওয়ামী লীগ আর অঙ্গসংগঠনের জন্ম হলো, যাদের বেশির ভাগই ছিল সুযোগসন্ধানী। এদের চরিত্র হচ্ছে উইপোকার মতো। এই উইপোকাদের দাপটে প্রকৃত কর্মীরা এখন অনেকটা কোণঠাসা। এই উইপোকারা এখন বেশ সক্রিয়; এবং এই সব মোকাবেলা করেই একজন শেখ হাসিনা উজান স্রোতে নৌকা ঠেলে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে একটি নতুন পরিচয় দিয়েছেন, যাকে বলে আইডেন্টিটি।


তিনি বলেন ,শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে অন্য এক উচ্চতায় নিয়ে গেছেন ঠিক, তবে তাঁকে ঘিরে শঙ্কাও কম নয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি বিদেশে থাকার কারণে বেঁচে গিয়েছিলেন, তবে সেদিন তাঁর জন্য যে বুলেট বরাদ্দ ছিল তা তাঁকে এখনো তাড়া করছে। এ পর্যন্ত তিনি ১৯ বার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন। ২০০৪ সালের ২৪ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় সমাবেশে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তাঁকে হত্যার জন্য গ্রেনেড হামলা ছিল সবচেয়ে ভয়াবহ হত্যা মিশন। দলের নেতাকর্মীরা নিজেদের জীবন দিয়ে শেখ হাসিনাকে সেদিন রক্ষা করেছে। সেই গ্রেনেড হামলার কুশীলবরা এখনো বাংলাদেশ, লন্ডন, পাকিস্তান, দুবাইসহ একাধিক দেশে সক্রিয়। দলের ভেতরে যেসব উইপোকা বাসা বেঁধেছে, তারা সময়মতো দলের সর্বনাশ করার জন্য সদা প্রস্তুত। সামনে জাতীয় নির্বাচন এলে তাদের অনেকের মুখোশ খুলে যাবে। গত এক বছরে যেসব নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা হেরেছে, তারা যত না প্রতিপক্ষের কাছে হেরেছে, তার চেয়ে পরাজয়ের পেছনে নিজ দলের এই উইপোকাদের অবদান অনেক বেশি। পরাজয়ের পর প্রতিবার বলা হয়, পরাজয়ের কারণ খতিয়ে দেখা হবে; কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। যার ফলে আগের মতো পরাজয় আরো এক স্থানে পুনরাবৃত্তি হয়। এই সত্যটা অনেকে উপলব্ধি করে না যে আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ হলে তাকে পরাজিত করা এখনো কঠিন। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর দলের হাল ধরে আওয়ামী লীগকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা অনাদি কাল ধরে আওয়ামী লীগের কাণ্ডারি থাকবেন না। ঠিক করতে হবে তাঁর হাতের বইঠা কে তুলে নেবেন। এ ক্ষেত্রে আবেগ দিয়ে কাজ হবে না; যা হবে তা বাস্তবতার নিরিখে।

আর এক বছরের কম সময়ে জাতীয় নির্বাচন। সেই নির্বাচনের দল হিসেবে প্রস্তুতি শুরুর এখনই সময়। এটি মনে রাখতে হবে, শেখ হাসিনা আর আওয়ামী লীগকে ঠেকানোর জন্য সময়মতো বহুমাত্রিক জোট হবে। সেখানে আওয়ামী লীগ আর শেখ হাসিনার বিরোধীরা তো থাকবেই, সঙ্গে যুক্ত হবে দেশের বেশ কিছু শক্তিশালী মিডিয়া, পরিচিত ‘নিরপেক্ষ’ সুধীজন আর অতি পরিচিত কিছু আন্তর্জাতিক শক্তি। এই সব মোকাবেলা করার দায়িত্ব এককভাবে একজন শেখ হাসিনার ওপর ছেড়ে দিলে তা হবে মহা অন্যায়। দলের নেতাকর্মীদের মনে রাখতে হবে, এই একজন শেখ হাসিনাকে ঘিরেই দেশের কোটি কোটি মানুষ এখনো স্বপ্ন দেখে; কারণ তিনি তাদের একটি পরিচয় দিয়েছেন। পিতার মতো শেখ হাসিনার পদচিহ্নও এই দেশে হাজার বছর থাকুক—এই প্রত্যাশাই করি।

Saturday, April 3, 2021

April 03, 2021

ফরিদপুরে জমি সংক্রান্ত মামলায় সাক্ষী দেওয়ায় পিতা পুত্র হামলার শিকার

 


ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুর শহরের বর্ধিত পৌরসভার ২৭নং ওয়ার্ডের মুন্সিবাজার কাফুরা গ্রামের নদীর পশ্চিম পাড় এলাকায় প্রতিবেশী রাহেলা বেগম নামে এক মহিলার জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলার সাক্ষী দেওয়ায় পিতা ও পুত্র প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় উভয়ই গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে মীর সেলিমের স্ত্রী মোসাঃ পিয়ারী বেগম (৪৮) বাদী হয়ে ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১নং আসামী লিটন মোল্যা (৩৫), ২নং আসামী খোকন মিয়া (৪০), ৩নং আসামী জাফর মিয়া (১৯), ৪নং আসামী হাচান (৩৫) কে আসামী করা হয়েছে। 

মামলার বাদী মোসাঃ পিয়ারী বেগমের মামলা সুত্রে জানা যায়, লিটন মোল্যা, খোকন মিয়া, জাফর মিয়া ও হাচান পরস্পর একদল সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, নেশাখোর ও মাদক ব্যবসায়ী। আসামীগণ এলাকার বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। এলাকার লোকজন আসামীদের অত্যাচার অনাচার এবং অসামাজিক কর্মকান্ডে অতিষ্ট। এদের ভয়ে এলাকার মানুষ কথা বলতে সাহস পায় না। এরই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় আমার ছেলে মিরাজ (২১) কে মারপিট করিয়া গুরুতর আহত করে। এবং টাকা ছিনতাই করিয়া গেলে নামকৃত আসামীদের নামে একটা মামলা দায়ের করি। যাহার মামলা নম্বর কোতয়ালী সি. আর ১৫২/২১। 

মামলাটি পিবিআইতে তদন্ত দিলে তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়। বিষয়টি নামকৃত আসামীগন জানতে পারলে আমার পরিবারের উপরে ভীষণ ভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ীর উপরে আসিয়া মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়া আসছিলো। আমার স্বামী একজন ভ্যান চালক প্রতিদিনের ন্যায় আমাদের সংসারের জীবিকা নির্বাহের জন্য ভ্যান নিয়ে মুন্সিবাজারে ভাড়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলো। এসময় একজন অজ্ঞাতনামা এক ব্যাক্তি ভাড়া করে বিলনালিয়া এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। ঘটনাস্থল বিলনালিয়া এলাকায় মাঠের  ফাঁকা জায়গায় পাকা  রাস্তার উপর গত ২১শে মার্চ রবিবার অনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টার দিকে অভিযুক্ত আসামীগন প্রত্যেকের হাতে লোহার হাতুড়ি উচু করিয়া বলে। এসময় আসামী লিটন মোল্যা মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে বলে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে সাক্ষী দিতে পারবিনা। আসামী খোকন, জাফর ও হাচান মামলা তুলিয়া নেওয়ার হুমকি দেয়। আসামীগন আরো বলে কৌশলে ঘটনাস্থলে এনেছি সেলিমকে খুন করে লাশ পুতে রেখে যাবো। আমার স্বামী সেলিম কথায় প্রতিবাদ করায় তাদের হাতে লোহার হাতুড়ি দিয়ে সারা শরীরে এলোপাথাড়ি ভাবে হামলা চালিয়ে মারতে শুরু করে। 

আমার স্বামীর শোর চিৎকার শুনে পথচারী ও এলাকার লোকজন আগাইয়া আসিলে আসামীগন দৌড়ে পালাইয়া যায়। মারাত্বক ভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত আমার স্বামী সেলিমকে লোকজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে আহত সেলিম হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা পেয়ে বাড়ীতে  রয়েছে। এখনো তারা আশংঙ্কামুক্ত হয়নি।

আসামীরা ক্ষমতার অপব্যাবহার করে এলাকায় বিভিন্ন লোকজনের সাথে মিলে উৎপাত চলিয়ে যাচ্ছে। আমি এই ব্যাপারে প্রশাসনকে অবহিত করেছি ঘটনায় জরিতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করছি। তাই উল্লেখিত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার পুর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদি পিয়ারী বেগম সহ এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, এই লিটন ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন কোন অপরাধ নাই যা তারা করে না। তাদের ইচ্ছামত কোন কিছু না হলেই এলাকাবাসীর উপর অত্যাচার চালায়। সন্ত্রাসী, মাদক কারবারীসহ সকল অপকর্মের সাথে জড়িত এই লিটন বাহিনী। স্কুল জীবনে ইভটিজিং এর মামলায় পালিয়ে বিদেশে চলে যায়। ফিরে এসে আগের সেই অপরাধে লিপ্ত হয়েছে লিটন। আমরা এই লিটন বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি চাই।  

অভিযোগ সুত্রে আরো জানা যায়, লিটন মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যাবসা করে এলাকার যুবসমাজ কে ধংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তার এই মাদক ব্যবসায়ের কর্মকান্ড এলাকাবাসী জানলেও লিটন মোল্যার পিতা এলাকার প্রভাশালী ব্যাক্তি বলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। এ ব্যাপারে লিটন মোল্যার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে অপর প্রান্ত থেকে কোন প্রকার সাড়া পাওয়া যায়নি।  

এ বিষয়ে ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আঃ রাজ্জাকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মারামারি ও মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে ০৩ এপ্রিল একটি শালিসের কথা তিনি জানেন কিন্তু সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি অন্যত্র শালিস থাকার কারণে।

Friday, April 2, 2021

April 02, 2021

'হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা' গ্রুপের ৪র্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন



নাজমুল হাসান নিরব,ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ 


স্বাস্থ্যবিধি মেনে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সবচেয়ে বৃহৎ ভার্চুয়াল প্লাটফর্ম 'হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা' গ্রুপের ৪র্থ প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করা হয়েছে। 


এ উপলক্ষে শুক্রবার (২ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা গ্রুপ পরিচালনা পর্ষদের আয়োজনে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।


সভায় আলফাডাঙ্গা সরকারি ডিগ্রি কলেজের অফিসার ইনচার্জ ও হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা গ্রুপের উপদেষ্টা মো. মনিরুল হক সিকদারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আলফাডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তৌহিদ এলাহি। 


আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন, আলফাডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি এনায়েত হোসেন, সহ-সভাপতি খান আসাদুজ্জামান টুনু, সাধারণ সম্পাদক আলমগীর কবীর ও প্রেসক্লাবের সদস্য মে. কামরুল ইসলাম প্রমুখ। 


বক্তারা হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা গ্রুপের ভূয়সী প্রশংসা করে বলেন, ডিজিটাল এ যুগে তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে অনেকেরই অভিযোগ আছে। সবকিছুকে পাশ কাটিয়ে ভার্চুয়ালেও যে একটি ভালো উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যায় তার একটি অনান্য দৃষ্টান্ত এই হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা গ্রুপ।


এসময় হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা গ্রুপের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম, মিয়া রাকিবুল, শাহারিয়ার নাজিম শাওন, তরিকুল ইসলাম তৌকির, শাহিদুল ইসলাম কোরবান, গোলাম কিবরিয়া, বাসুদেব কুন্ডু জয় ও মেহেদী হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 


আলোচনা সভা শেষে উপস্থিত সকলে কেক কেটে প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদযাপন করেন। 


প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ২ এপ্রিল হৃদয়ে আলফাডাঙ্গা গ্রুপের পথচলা। প্রতিষ্ঠার মাত্র ৪ বছরে ইতিমধ্যে গ্রুপটি সামাজিক ও মানবিক কাজ করে আলফাডাঙ্গা উপজেলার সাধারণ মানুষের ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।