Breaking

Saturday, April 3, 2021

ফরিদপুরে জমি সংক্রান্ত মামলায় সাক্ষী দেওয়ায় পিতা পুত্র হামলার শিকার

 


ফরিদপুর প্রতিনিধিঃ
ফরিদপুর শহরের বর্ধিত পৌরসভার ২৭নং ওয়ার্ডের মুন্সিবাজার কাফুরা গ্রামের নদীর পশ্চিম পাড় এলাকায় প্রতিবেশী রাহেলা বেগম নামে এক মহিলার জমি সংক্রান্ত বিষয়ে আদালতে মামলার সাক্ষী দেওয়ায় পিতা ও পুত্র প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন। হামলায় উভয়ই গুরুতর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ ব্যাপারে মীর সেলিমের স্ত্রী মোসাঃ পিয়ারী বেগম (৪৮) বাদী হয়ে ফরিদপুর বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ১নং আমলী আদালতে মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় ১নং আসামী লিটন মোল্যা (৩৫), ২নং আসামী খোকন মিয়া (৪০), ৩নং আসামী জাফর মিয়া (১৯), ৪নং আসামী হাচান (৩৫) কে আসামী করা হয়েছে। 

মামলার বাদী মোসাঃ পিয়ারী বেগমের মামলা সুত্রে জানা যায়, লিটন মোল্যা, খোকন মিয়া, জাফর মিয়া ও হাচান পরস্পর একদল সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ, নেশাখোর ও মাদক ব্যবসায়ী। আসামীগণ এলাকার বিভিন্ন অপকর্মের সাথে জড়িত। এলাকার লোকজন আসামীদের অত্যাচার অনাচার এবং অসামাজিক কর্মকান্ডে অতিষ্ট। এদের ভয়ে এলাকার মানুষ কথা বলতে সাহস পায় না। এরই সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের ধারাবাহিকতায় আমার ছেলে মিরাজ (২১) কে মারপিট করিয়া গুরুতর আহত করে। এবং টাকা ছিনতাই করিয়া গেলে নামকৃত আসামীদের নামে একটা মামলা দায়ের করি। যাহার মামলা নম্বর কোতয়ালী সি. আর ১৫২/২১। 

মামলাটি পিবিআইতে তদন্ত দিলে তদন্ত কর্মকর্তা ঘটনাস্থল তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পায়। বিষয়টি নামকৃত আসামীগন জানতে পারলে আমার পরিবারের উপরে ভীষণ ভাবে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ীর উপরে আসিয়া মামলা তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়া আসছিলো। আমার স্বামী একজন ভ্যান চালক প্রতিদিনের ন্যায় আমাদের সংসারের জীবিকা নির্বাহের জন্য ভ্যান নিয়ে মুন্সিবাজারে ভাড়ার জন্য অপেক্ষায় ছিলো। এসময় একজন অজ্ঞাতনামা এক ব্যাক্তি ভাড়া করে বিলনালিয়া এলাকায় নিয়ে যাওয়ার কথা বলে। ঘটনাস্থল বিলনালিয়া এলাকায় মাঠের  ফাঁকা জায়গায় পাকা  রাস্তার উপর গত ২১শে মার্চ রবিবার অনুমানিক সন্ধ্যা ৬ টার দিকে অভিযুক্ত আসামীগন প্রত্যেকের হাতে লোহার হাতুড়ি উচু করিয়া বলে। এসময় আসামী লিটন মোল্যা মৃত্যুর ভয় দেখিয়ে বলে আমাদের বিরুদ্ধে আদালতে গিয়ে সাক্ষী দিতে পারবিনা। আসামী খোকন, জাফর ও হাচান মামলা তুলিয়া নেওয়ার হুমকি দেয়। আসামীগন আরো বলে কৌশলে ঘটনাস্থলে এনেছি সেলিমকে খুন করে লাশ পুতে রেখে যাবো। আমার স্বামী সেলিম কথায় প্রতিবাদ করায় তাদের হাতে লোহার হাতুড়ি দিয়ে সারা শরীরে এলোপাথাড়ি ভাবে হামলা চালিয়ে মারতে শুরু করে। 

আমার স্বামীর শোর চিৎকার শুনে পথচারী ও এলাকার লোকজন আগাইয়া আসিলে আসামীগন দৌড়ে পালাইয়া যায়। মারাত্বক ভাবে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত আমার স্বামী সেলিমকে লোকজন ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। বর্তমানে আহত সেলিম হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা পেয়ে বাড়ীতে  রয়েছে। এখনো তারা আশংঙ্কামুক্ত হয়নি।

আসামীরা ক্ষমতার অপব্যাবহার করে এলাকায় বিভিন্ন লোকজনের সাথে মিলে উৎপাত চলিয়ে যাচ্ছে। আমি এই ব্যাপারে প্রশাসনকে অবহিত করেছি ঘটনায় জরিতদের দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি করছি। তাই উল্লেখিত আসামীদের দ্রুত গ্রেফতার পুর্বক আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন মামলার বাদি পিয়ারী বেগম সহ এলাকাবাসী।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যাক্তি জানান, এই লিটন ও তার সহযোগীদের অত্যাচারে এলাকায় বসবাস করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন কোন অপরাধ নাই যা তারা করে না। তাদের ইচ্ছামত কোন কিছু না হলেই এলাকাবাসীর উপর অত্যাচার চালায়। সন্ত্রাসী, মাদক কারবারীসহ সকল অপকর্মের সাথে জড়িত এই লিটন বাহিনী। স্কুল জীবনে ইভটিজিং এর মামলায় পালিয়ে বিদেশে চলে যায়। ফিরে এসে আগের সেই অপরাধে লিপ্ত হয়েছে লিটন। আমরা এই লিটন বাহিনীর হাত থেকে মুক্তি চাই।  

অভিযোগ সুত্রে আরো জানা যায়, লিটন মোল্যা দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যাবসা করে এলাকার যুবসমাজ কে ধংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। তার এই মাদক ব্যবসায়ের কর্মকান্ড এলাকাবাসী জানলেও লিটন মোল্যার পিতা এলাকার প্রভাশালী ব্যাক্তি বলে ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারছে না। এ ব্যাপারে লিটন মোল্যার মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে অপর প্রান্ত থেকে কোন প্রকার সাড়া পাওয়া যায়নি।  

এ বিষয়ে ২৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আঃ রাজ্জাকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, মারামারি ও মামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না। তবে ০৩ এপ্রিল একটি শালিসের কথা তিনি জানেন কিন্তু সেখানে যাওয়া সম্ভব হয়নি অন্যত্র শালিস থাকার কারণে।

No comments:

Post a Comment