Breaking

Sunday, March 20, 2022

চেয়ারম্যানকে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ায় পুলিশে ধরিয়ে দিলেন | আমাদের ফরিদপুর

চেয়ারম্যানকে ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ায় পুলিশে ধরিয়ে দিলেন | আমাদের ফরিদপুর


বোয়ালমারী (ফরিদপুর) প্রতিনিধি:

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার রুপাপাত ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে ১ লাখ টাকা ঘুষের প্রস্তাব দেওয়ায় ওহাব মোল্লা (৭৫) নামের এক ব্যাক্তিকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান।ওহাব মোল্লা রুপাপাত ইউনিয়নের কদমী গ্রামের বাসিন্দা।


জানা যায়, ওহাব মোল্লা পুলিশে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে মুকসুদপুর উপজেলার প্রভাকরদী গ্রামেরবাসিন্দা মরিয়াম খাতুনের (৫১) ছেলে এনায়েত মুন্সিকে (১৯) পুলিশে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ওহাব মোল্লা ১০ লক্ষ টাকা নেয়। টাকা নেওয়ার পর তার ছেলের চাকুরী না হওয়ায় ওহাব মোল্লার কাছে টাকা ফেরত চায় ওই নারী।


এ ঘটনায় গত ২০১৯ সালের মে মাসের ১৫ তারিখে কদমী গ্রামে মারুফ মিয়ার বাড়ির সামনে একটি শালিস বৈঠক হয়। 


শালিস বৈঠকের পর টাকা না পাওয়ায় গত ২০২২ সালের ১২ মার্চ ওই মহিলা রুপাপাত ইউনিয়নের গ্রাম আদালতে বিচার চেয়ে লিখিত অভিযোগ করেন মরিয়াম খাতুন।


অভিযোগের ভিত্তিতে ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান নোটিশ করলে ওহাব মোল্লার ছেলে আবু বক্কার শেখ সময়ের আবেদন করেন। আবেদনে প্রেক্ষিতে   শনিবার (১৯ মার্চ) ইউনিয়ন পরিষদে উভয় পক্ষের উপস্থিতে সাক্ষীগণের মাধ্যমেসালিশ সভা হয়। এ সময় টাকা নেওয়ার বিষয়টি ওহাব মোল্লা স্বীকার করেন।


সালিশের এক পর্যায় ওহাব মোল্লা চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমানকে শালিস থেকে ডেকে এনে  ১ লক্ষ টাকা ঘুষ দেওয়ার প্রস্তাব করে বলেন, আপনাকে এক লাখ টাকা দিচ্ছি, আপনি শালিস বন্ধ করে দেন।


এ কথা শোনার পরে চেয়ারম্যান পুলিশকে খবর দিয়ে ওহাব মোল্লাকে পুলিশের হাতে তুলে দেন।


মরিয়াম খাতুন বলেন, আমার ৫ শতক জমি ছিল। ওই জমিতে আমি বসবাস করতাম। সেই জমি বিক্রি করে ওহাব মোল্লাকে চাকুরীর জন্য ১০ লক্ষ টাকা দেই। চাকুরীও দেয় না টাকাও ফেরত দেয় না।


রুপাপাত ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান বলেন, মরিয়াম নামের এক নারী আমার পরিষদে লিখিত অভিযোগ দেয় ওহাব মোল্লার নামে। শনিবার শালিসে বসলে ওহাব মোল্লা স্বীকার করেন তিনি ওই নারীর ছেলেকে পুলিশে চাকুরী দেওয়ার কথা বলে ১০ লাখ টাকা নিয়েছে। আমাকে ১ লাখ দেবে প্রস্তাব দিয়ে শালিস বন্ধ করে দিতে বলে ওহাব মোল্লা। পরে আমি পুলিশে খবর দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করি।


ডহন নগর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরির্দশক (এসআই) কবির হোসেন বলেন, পুলিশের চাকুরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেওয়ার অভিযোগে ওহাব মোল্লাকে আটক করে বোয়ালমারী থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। এ ব্যাপারে পুলিশের উর্ধতম কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে পরবর্তি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


No comments:

Post a Comment